EN BN
খবরে রয়েছে

সুন্দরবনের পশ্চিম দুয়ার শ্যামনগর

জি এম মনিরুজ্জামান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা): নদীর বুক চিরে নৌযান এগিয়ে যাচ্ছে। দুই পাশে ঘন সবুজ ম্যানগ্রোভ বন, কোথাও সরু খালের আঁকাবাঁকা পথ, কোথাও বিস্তীর্ণ নদীর…

শেয়ার Facebook
সুন্দরবনের পশ্চিম দুয়ার শ্যামনগর
সুন্দরবনের পশ্চিম দুয়ার শ্যামনগর

জি এম মনিরুজ্জামান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা):

নদীর বুক চিরে নৌযান এগিয়ে যাচ্ছে। দুই পাশে ঘন সবুজ ম্যানগ্রোভ বন, কোথাও সরু খালের আঁকাবাঁকা পথ, কোথাও বিস্তীর্ণ নদীর জলরাশি। গাছের ডালে পাখির আনাগোনা, নদীর কিনারে বন্য প্রাণীর বিচরণ। প্রকৃতির এমন অনন্য সৌন্দর্যের নাম সুন্দরবন। সাতক্ষীরার শ্যামনগর দিয়ে এই বনের পশ্চিমাংশে প্রবেশের সুযোগ পর্যটকদের সামনে খুলে দিয়েছে এক ভিন্নধর্মী ভ্রমণজগৎ।

বন অধিদপ্তরের ইকো-ট্যুরিজম তালিকায় থাকা কলাগাছিয়া ও দোবেকী সুন্দরবনের পশ্চিমাংশের উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্র। শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনীকে কেন্দ্র করে এসব গন্তব্যে যাওয়ার নৌপথ রয়েছে। বন অধিদপ্তরের নির্ধারিত রুট অনুযায়ী বুড়িগোয়ালিনী বা মুন্সিগঞ্জ থেকে দোবেকী হয়ে কলাগাছিয়ায় পৌঁছানো যায়।

কলাগাছিয়ায় রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, কাঠের হাঁটার পথ, বনভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য দেখার সুযোগ। ভাগ্য সহায় হলে দেখা মিলতে পারে চিত্রা হরিণ, বানর, কুমির ও নানা প্রজাতির পাখির। অন্যদিকে দোবেকীর ঘন ম্যানগ্রোভ বন, নদী-খাল ও নির্জন পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করে।

ঢাকা থেকে সড়কপথে সাতক্ষীরা হয়ে শ্যামনগরে পৌঁছানো যায়। উপজেলা সদর থেকে স্থানীয় পরিবহনে মুন্সিগঞ্জ অথবা বুড়িগোয়ালিনী গিয়ে বন বিভাগের অনুমোদিত নৌযানে সুন্দরবনের নির্ধারিত পর্যটনকেন্দ্রে যেতে হয়। শুধু কলাগাছিয়া ঘুরতে একদিনের পরিকল্পনা করা সম্ভব। একাধিক গন্তব্য ঘুরতে চাইলে নৌপথ, সময় ও অনুমতির ভিত্তিতে ভ্রমণের সময় বাড়াতে হবে।

সুন্দরবন ভ্রমণের আকর্ষণ শুধু বন্য প্রাণী দেখা নয়। ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বৈচিত্র্য, জোয়ার-ভাটার পরিবর্তন, নদীর মোহনা, বনভূমির নিস্তব্ধতা এবং সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য পর্যটকদের জন্য তৈরি করে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। তবে বাঘসহ কোনো বন্য প্রাণী দেখার নিশ্চয়তা নেই।

পর্যটনের পাশাপাশি সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক নিরাপত্তাবলয়। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের অভিঘাত থেকে উপকূলকে রক্ষায় এ বনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শ্যামনগরসহ আশপাশের এলাকার জেলে, মৌয়াল ও বনজীবীদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সুন্দরবন গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের বিকাশ ঘটলে শ্যামনগরে স্থানীয় পরিবহন, নৌযান, আবাসন, খাবার ও পর্যটনসেবায় কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি।

সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্ধারিত অনুমতি ছাড়া বনে প্রবেশ, বন্য প্রাণীকে বিরক্ত করা কিংবা বনাঞ্চলে বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রকৃতিকে অক্ষত রেখেই পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে পারলে শ্যামনগর হয়ে উঠতে পারে সুন্দরবন ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।

আপনার মতামত লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মতামতটি আপনার হোক।